বায়ুদূষণে গড়ে সাড়ে ৫ বছর আয়ু হারাচ্ছে বাংলাদেশিরা

বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণের দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষের আয়ুষ্কাল হ্রাসের জন্য সবচেয়ে বড় বাহ্যিক হুমকি বায়ুদূষণ, যা প্রতিটি নাগরিকের গড় আয়ু সাড়ে ৫ বছর কমিয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দূষণের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত মাত্রার তুলনায় ১২ দশমিক ২ গুণ বেশি এবং বৈশ্বিক গড় দূষণের আড়াই গুণ।

একিউএলআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৬৮ লাখ জনসংখ্যার সবাই এমন এলাকায় বসবাস করেন, যেখানে বস্তুকণা (পিএম ২.৫) দূষণের বার্ষিক গড় মাত্রা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানদণ্ডের চেয়ে বেশি। এমনকি সবচেয়ে কম দূষিত শহর লালমনিরহাটেও বস্তুকণা দূষণের হার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা অনুযায়ী ৭ গুণ বেশি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বাতাসে পিএম ২.৫ কণার ঘনত্ব ৬৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে মানুষের আয়ু আরও ২ দশমিক ৪ বছর কমে গেছে। সবচেয়ে দূষিত বিভাগ ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকা অনুযায়ী পিএম ২.৫ কণার ঘনত্ব কমানো গেলে মানুষের আয়ু ৬ দশমিক ২ বছর বৃদ্ধি পেত।

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুদূষণেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে বায়ুদূষণ ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ুদূষণের কারণে মানুষের গড় আয়ু তিন বছর কমছে। প্রাকৃতিক দাবানল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বায়ুর মানও খারাপ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

একিউএলআইয়ের পরিচালক তনুশ্রী গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘এখনো বায়ুদূষণই বিশ্বের মানুষের জীবনকাল ছোট হওয়ার প্রধান কারণ। জীবাশ্ম জ্বালানির উৎসের দিকে মনোযোগ দিলে স্থানীয় বায়ুর মান ভালো হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।’

এনএএন টিভি